নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন ডেস্ক;

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শত শত পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য বসতঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা সড়ক, নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি খাদ্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুব সংগঠন জাইদা বাংলাদেশ, শেয় সোসাইটি, ইয়ুথ পিসবিল্ডার্স এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা শুরুর পর থেকেই যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষের পাশে কাজ করছেন। তারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সহায়তা, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ, শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানীয় পানি বিতরণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং জরুরি প্রয়োজন নিরূপণের কাজ করছেন।

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, অনেক পরিবার নিজ বাড়িতেই আশ্রয় নিয়ে থাকলেও রান্না করা, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

শেয় সোসাইটির প্রতিনিধি আলম মুহাম্মদ রাসেল বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়িতে গিয়ে আমরা দেখেছি, অধিকাংশ নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারই নিরাপদ পানীয় পানির জন্য সহযোগিতা চেয়েছে। এ বাস্তবতায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “জরুরি সহায়তার প্রথম ধাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি পরিবারের প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানীয় পানি, ত্রিপল, খাবার স্যালাইন (ওআরএস) এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার পরিধি বাড়ানো হবে।”

জাইদা বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শাহরুখ করিম বলেন, “দুর্যোগের সময় দ্রুত ও সমন্বিতভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমরা শুধু ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি না; ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। স্থানীয় প্রশাসন ও অংশীদারদের সহযোগিতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সংগঠনগুলো জানিয়েছে, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংস্থা, দাতা সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত ও কার্যকর জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।